বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও বাংলাদেশের ওপর প্রভাব
- পোষ্ট টাইম : 2026-03-14 18:03:27
- আপডেট টাইম :
- 11443 বার পঠিত
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে। গত কয়েকদিনের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আজ শনিবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম গত দুই বছরের রেকর্ড ভেঙে প্রতি ব্যারেল ১০০ মার্কিন ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করেছে। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিলেও বাংলাদেশের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে তেহরান।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ঝুঁকির কারণেই তেলের বাজারে এই আগ্নিমূল্য। আজ সকালে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০.৪৫ ডলারে লেনদেন হতে দেখা গেছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই উত্তেজনা প্রশমিত না হয়, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারেও গিয়ে ঠেকতে পারে। এর ফলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্বজুড়ে খাদ্যদ্রব্য ও নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কার মাঝেই বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে ইরান সরকার। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশি পতাকাবাহী এবং বাংলাদেশ অভিমুখে আসা তেলবাহী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে সম্পূর্ণ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "বাংলাদেশ একটি ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র এবং আমাদের কৌশলগত অংশীদার। তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান সব ধরনের সহযোগিতা করবে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি পণ্যবাহী কোনো জাহাজ আমাদের পক্ষ থেকে কোনো বাধার সম্মুখীন হবে না।"
বাংলাদেশের জ্বালানি বিভাগ এই আশ্বাসকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। কারণ বাংলাদেশের আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই রুট ব্যবহার করেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আসে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়ানো বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে সরকারের ওপর ভর্তুকির চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়।
অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, "তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়ানো আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। আমদানি ব্যয় বাড়লে ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও কমতে পারে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে জাহাজ চলাচলের যে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে, তা অন্তত আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।"
সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা আজ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, "আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তেলের মজুদ রয়েছে। এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে অভ্যন্তরীণ বাজারে তার সমন্বয় করা হবে কি না, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।"
এদিকে, জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অস্থিরতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের উচিত দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মনোযোগ বাড়ানো এবং দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস কূপগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানো (যেমনটি আজ শ্রীকাইলে শুরু হয়েছে)।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে ওপেক (OPEC) দেশগুলোকে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, চীন ও ভারত—যারা বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক—তারাও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধংদেহী আবহ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বাংলাদেশেও তার আঁচ লাগবে। তবে ইরানের বিশেষ আশ্বাস আমাদের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা অন্তত বর্তমান সংকটে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার পথ সুগম করবে।
| ফজর | শুরু- ৫.১২ টা ভোর |
| যোহর | শুরু- ১২.১২ টা দুপুর |
| আছর | শুরু- ৩.৩০ টা বিকাল |
| মাগরিব | শুরু- ৫.৫৭ টা সন্ধ্যা |
| এশা | শুরু- ৭.১৩ মিনিট রাত |
| Jummah | - দুপুর |