ডিজেলের তীব্র সংকট: মুন্সীগঞ্জে সেচ নিয়ে বিপাকে কৃষক, ৫ হাজার টন আমদানিতেও কাটছে না অস্বস্তি
- পোষ্ট টাইম : 2026-04-17 21:38:40
- আপডেট টাইম :
- 438 বার পঠিত
সারাদেশে বোরো মৌসুমের শেষ সময়ে এসে জ্বালানি তেল, বিশেষ করে ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন কৃষিপ্রধান জেলায় জ্বালানি তেলের পাম্পগুলো চাহিদামত তেল সরবরাহ করতে পারছে না। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা। ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল আসার খবর পাওয়া গেলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব এখনো অত্যন্ত সীমিত।
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান, শ্রীনগর ও লৌহজং উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ডিজেলের অভাবে অধিকাংশ সেচ পাম্প বন্ধ হয়ে আছে। কৃষকরা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যালন প্রতি ২-৩ লিটারের বেশি তেল পাচ্ছেন না। অনেক পাম্পে 'তেল নেই' সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল মতিন আক্ষেপ করে বলেন, "ধান এখন পাকার পথে, এই সময় পানির খুব দরকার। কিন্তু পাম্পে গিয়ে তেল পাচ্ছি না। খোলা বাজারে ১২০-১৩০ টাকা লিটার দরে তেল বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ কৃষকের নাগালের বাইরে। এভাবে চললে আমাদের ফসল মাঠেই শুকিয়ে যাবে।"
সরকার জ্বালানি সংকট মেটাতে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৫,০০০ মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানি শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে এই তেল আসা শুরু হয়। মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, এই পরিমাণ তেল পৌঁছাতে প্রায় ৪৫ ঘণ্টা সময় লাগবে।
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল দেশের বর্তমান চাহিদার তুলনায় নগণ্য। বোরো সেচ মৌসুমে দৈনিক যে পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন হয়, তা মেটাতে আরও বড় ধরণের আমদানির বিকল্প নেই। পার্বতীপুর থেকে এই তেল সারা দেশের ডিলারদের কাছে পৌঁছাতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে, ফলে বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার কারণে আমদানিকৃত তেলের চালান সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না। এছাড়া ডলার সংকটের কারণে এলসি (LC) খুলতে বিলম্ব হওয়াও এই সংকটের অন্যতম কারণ। যদিও সরকার সম্প্রতি রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য নতুন করে অনুমোদন পেয়েছে, তবে সেই তেল বাজারে আসতে জুন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
ডিজেলের এই কৃত্রিম ও প্রকৃত সংকটের সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। সেচ পাম্প মালিকরা তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে প্রতি বিঘা জমিতে সেচ খরচ বাড়িয়ে দিয়েছেন ৩০০-৫০০ টাকা। এতে করে চালের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
স্বাস্থ্য ও জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্ররা দাবি করছেন, দেশে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সংকট সাময়িক। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক চালক ও কৃষকদের ক্ষোভ বাড়ছে। ডিলারদের দাবি, বিপিসি থেকে তারা চাহিদার মাত্র ৩০-৪০ শতাংশ তেল পাচ্ছেন।
এই মুহূর্তে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে না পারলে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। কৃষকরা সরকারের কাছে দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেচ কার্যের জন্য ডিজেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।
| ফজর | শুরু- ৫.১২ টা ভোর |
| যোহর | শুরু- ১২.১২ টা দুপুর |
| আছর | শুরু- ৩.৩০ টা বিকাল |
| মাগরিব | শুরু- ৫.৫৭ টা সন্ধ্যা |
| এশা | শুরু- ৭.১৩ মিনিট রাত |
| Jummah | - দুপুর |