|
বঙ্গাব্দ | শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

www.bdcrimewatch.com : একটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, অবানিজ্যিক, সমাজসেবা মূলক উদ্যোগ।
আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া অনিয়ম, অসঙ্গতি ও অপরাধের তথ্য দিতে যোগাযোগ করুন।

Big Adds 2

ব্যবসায়ীদের স্বস্তি: শপিং মল ও দোকানপাট খোলার সময় ১ ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ৭টা নির্ধারণ

Reporter
রিপোর্টারের নামঃ MAMUNUR RAHMAN
  • পোষ্ট টাইম : 2026-04-07 10:33:03
  • 20471 বার পঠিত
ব্যবসায়ীদের স্বস্তি: শপিং মল ও দোকানপাট খোলার সময় ১ ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ৭টা নির্ধারণ
ছবির ক্যাপশন: শপিং মল ও দোকানপাট খোলার সময় ১ ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ৭টা নির্ধারণ

সারাদেশে চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গত কয়েক মাস ধরে শপিং মল ও দোকানপাট খোলার সময়সীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। তবে পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী বাজার পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে সরকার দোকান ও শপিং মল খোলা রাখার সময়সীমা এক ঘণ্টা বৃদ্ধি করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থেকেই সারাদেশে দোকান ও শপিং মলগুলো রাত ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

আজ সকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভা শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি জরুরি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।


গত কয়েক মাস ধরে সারাদেশে লোডশেডিং এবং জ্বালানি সংকটের কারণে রাত ৬টার মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা বলবৎ ছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীরা দাবি জানিয়ে আসছিলেন যে, ৬টার মধ্যে বন্ধ করায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে চাকুরিজীবী ক্রেতারা অফিস শেষে বাজারে আসার সময় পান না।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতা এবং অংশীজনরা সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে একাধিক বৈঠক করেন। তাদের যুক্তি ছিল, অন্তত এক ঘণ্টা সময় বাড়ালে কেনাকাটা ও বিক্রয়প্রক্রিয়া কিছুটা স্বাভাবিক হবে, যা অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সহায়ক হবে।


সরকার এক ঘণ্টা সময় বাড়ালেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়নি। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তাই দোকান ও শপিং মল খোলা রাখার সময় বাড়লেও অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বা হাই-ভোল্টেজ বিদ্যুতের ব্যবহার পরিহার করতে হবে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেন, "আমরা অর্থনীতির গতি ও মানুষের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে এই এক ঘণ্টা সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে সবাইকে মনে রাখতে হবে, জ্বালানি পরিস্থিতি এখনো আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। আমরা চাই ব্যবসায়ীরা এই বাড়তি সময়টি কাজে লাগান, কিন্তু বিদ্যুতের অপচয় যেন না হয়।"


সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই (FBCCI) এবং বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, "আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানাই। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকান বন্ধ করা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন রাত ৭টা পর্যন্ত সময় পাওয়ায় খুচরা বিক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন এবং ক্রেতারাও অফিস শেষে বাজার করার সুযোগ পাবেন।"

এদিকে সাধারণ ক্রেতারাও এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রাজধানীর একটি শপিং মলে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, "৬টার সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে দ্রুত কাজ শেষ করতে হতো, যা খুব ঝক্কির ছিল। রাত ৭টা পর্যন্ত সময় হওয়ায় এখন কিছুটা নিরিবিলিতে কেনাকাটা করা যাবে।"

নতুন এই সময়সূচী আজ মঙ্গলবার থেকেই সারাদেশে কার্যকর হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এই আদেশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে রাত ৭টার পর যাতে কোনোভাবেই দোকান বা শপিং মল খোলা না থাকে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার না করা হয়, সেদিকে নজরদারি বাড়ানো হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তটি প্রাথমিকভাবে আগামী এক মাসের জন্য নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে জ্বালানি পরিস্থিতি এবং জনস্বার্থ বিবেচনা করে সময়সীমা আরও বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ bdcrimewatch.com | Crime Watch | reliable news portal | অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ

কারিগরী সহযোগিতায়: DHAKA SUPPLIER