চৈত্রের শুরুতেই প্রকৃতির রুদ্ররূপ: রাজধানীসহ দেশজুড়ে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে গরমে স্বস্তি, জনজীবনে অস্বস্তি
- পোষ্ট টাইম : 2026-03-14 18:49:18
- আপডেট টাইম :
- 11466 বার পঠিত
ঋতুরাজ বসন্তের শেষ সময়ে এসে প্রকৃতির মেজাজ বদলেছে আকস্মিক। চৈত্রের শুরুতেই গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আঘাত হেনেছে বছরের প্রথম শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী শিলাবৃষ্টি। দীর্ঘ কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরমের পর এই বৃষ্টি জনজীবনে এক চিলতে স্বস্তি নিয়ে এলেও, ঝড়ের তাণ্ডব আর শিলাবৃষ্টির তীব্রতা রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার বিকেল থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘলা। সন্ধ্যা নামার ঠিক আগে আগে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসে কালো মেঘের ঘনঘটা। মুহূর্তের মধ্যেই ধূলিঝড় আর কালবৈশাখীর ঝাপটায় অন্ধকার হয়ে যায় চারিদিক। এরপরই শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি আর বড় বড় দানার শিলাবৃষ্টি। রাজধানীর মিরপুর, ধানমন্ডি, কারওয়ান বাজার, উত্তরা এবং মতিঝিলসহ প্রায় সব এলাকায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট ধরে চলে এই শিলাবৃষ্টির তান্ডব। ঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার।
গত এক সপ্তাহ ধরে সারাদেশে যে গুমোট গরম অনুভূত হচ্ছিল, এই বৃষ্টির পর তাপমাত্রা এক ধাক্কায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। রাতে এবং আজ সকালে রাজধানীর আবহাওয়া ছিল বেশ স্নিগ্ধ ও আরামদায়ক। তবে বিপত্তি বেঁধেছে যাতায়াতে। বৃষ্টির ফলে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায় এবং অনেক স্থানে বড় বড় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিসফেরত মানুষ এবং সন্ধ্যার কেনাকাটায় বের হওয়া সাধারণ মানুষ হঠাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়েন।
শুধু ঢাকা নয়, কালবৈশাখীর আঘাত লেগেছে সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা এবং উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলায়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে শিলাবৃষ্টির তীব্রতা ছিল বেশি। গ্রামাঞ্চলে টিনের চালের ঘরবাড়ি শিলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কুমিল্লার অনেক জায়গায় ঝোড়ো হাওয়ায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন ছিল।
এই বৃষ্টি সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তথ্যমতে, এই আগাম শিলাবৃষ্টি আমের মুকুল, লিচু এবং বোরো ধানের জন্য কিছুটা ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে আমের মুকুল ঝরে পড়ার আশঙ্কা করছেন বাগান মালিকরা। তবে শাকসবজি ও পাটের জন্য এই বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়েও দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে এই ধরনের ঝোড়ো হাওয়া বা কালবৈশাখী হওয়া স্বাভাবিক। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং পশ্চিমা লঘুচাপের সংযোগের ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা দেশের কোথাও কোথাও বিশেষ করে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে আরও ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জেলেদের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে এবং নদী বন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
প্রকৃতির এই রূপবদল আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে বৈশাখী ঝড় সমাগত। একদিকে ধুলোবালি কমে যাওয়া এবং তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়া যেমন ইতিবাচক, তেমনি ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতিও জরুরি। বিশেষ করে রাজধানীর জীর্ণ ভবন বা ভঙ্গুর গাছগুলোর ডাল ছাঁটাই করার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে এই প্রথম কালবৈশাখী।
| ফজর | শুরু- ৫.১২ টা ভোর |
| যোহর | শুরু- ১২.১২ টা দুপুর |
| আছর | শুরু- ৩.৩০ টা বিকাল |
| মাগরিব | শুরু- ৫.৫৭ টা সন্ধ্যা |
| এশা | শুরু- ৭.১৩ মিনিট রাত |
| Jummah | - দুপুর |