জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট: দেশব্যাপী সরকারের সাঁড়াশি অভিযান, মোংলা ও রাজবাড়ীতে বিপুল তেল জব্দ ও জরিমানা
- পোষ্ট টাইম : 2026-03-30 10:04:35
- আপডেট টাইম :
- 6927 বার পঠিত
দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনভোগান্তি সৃষ্টি ও অবৈধ মুনাফালোভী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে সরকার। জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুতদারদের রুখতে আজ দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বিশেষ করে মোংলা ও রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মজুতকৃত তেল জব্দ এবং সংশ্লিষ্টদের মোটা অংকের জরিমানা করা হয়েছে।
আজ সকালে মোংলা পোর্ট এলাকায় একটি বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান চালায়। অভিযানে দেখা যায়, বেশ কিছু ফিলিং স্টেশন ও গুদামে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত ডিজেল ও অকটেন মজুত রাখা হয়েছে, অথচ সাধারণ গ্রাহকদের কাছে 'তেল নেই' বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মোংলা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় তিনটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫ হাজার লিটার অবৈধ মজুতকৃত তেল জব্দ করা হয়। এ সময় লাইসেন্স না থাকা এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অপরাধে সংশ্লিষ্ট মালিকদের ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
একইভাবে রাজবাড়ী জেলা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে এবং মহাসড়ক সংলগ্ন পাম্পগুলোতে ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় একটি গোপন গুদাম থেকে কয়েকশ ড্রাম ভর্তি চোরাই ও মজুতকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অবৈধ এই মজুতের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং জব্দকৃত তেল সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজারে তেলের দামের অস্থিরতাকে পুঁজি করে দেশে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী তেলের সংকট দেখানোর চেষ্টা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের জন্য আমদানির শিডিউলও চূড়ান্ত। যারা কৃত্রিমভাবে সরবরাহ লাইনে বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, "আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযানগুলো চালাচ্ছি। মোংলা ও রাজবাড়ী ছাড়াও উত্তরবঙ্গ এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন ডিপো সংলগ্ন এলাকায় আমাদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের পকেট কেটে কেউ যেন ফায়দা লুটতে না পারে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
সরেজমিনে দেখা গেছে, অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক পাম্পে তেলের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে সাধারণ ট্রাক ও বাস চালকদের অভিযোগ, অনেক জায়গায় এখনো গোপনে বাড়তি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি মৌসুমে সেচ কাজের জন্য ডিজেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রান্তিক কৃষকরা এই সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছেন।
সরকার আগামী কয়েক দিন এই অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নেতৃত্বে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া কোনো ডিলার বা পাম্প মালিক তেল মজুত করলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
| ফজর | শুরু- ৫.১২ টা ভোর |
| যোহর | শুরু- ১২.১২ টা দুপুর |
| আছর | শুরু- ৩.৩০ টা বিকাল |
| মাগরিব | শুরু- ৫.৫৭ টা সন্ধ্যা |
| এশা | শুরু- ৭.১৩ মিনিট রাত |
| Jummah | - দুপুর |