তনু হত্যা মামলার তদন্তে স্থবিরতা: সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করলেন আদালত
- পোষ্ট টাইম : 2026-04-07 10:42:37
- আপডেট টাইম :
- 3916 বার পঠিত
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দেশজুড়ে আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আদালত। মামলার তদন্তের বর্তমান অবস্থা এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণ ব্যাখ্যা করতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (আইও) সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক এই আদেশ প্রদান করেন। আগামী শুনানির দিনে মামলার নথিপত্রসহ (সিডি) তদন্তকারী কর্মকর্তাকে উপস্থিত হয়ে তদন্তের আপডেট জানাতে বলা হয়েছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার একটি জঙ্গল থেকে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় তৎকালীন সময়ে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।
মামলাটি থানা পুলিশ থেকে শুরু করে ডিবি এবং পরবর্তীতে সিআইডির (Criminal Investigation Department) হাতে ন্যস্ত করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছর পার হয়ে গেলেও সিআইডি এখনো পর্যন্ত কোনো আসামিকে শনাক্ত করতে পারেনি কিংবা মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করতে সক্ষম হয়নি।
আজকের শুনানিতে বাদীর আইনজীবী আদালতকে জানান যে, তদন্তের নামে বছরের পর বছর কেবল সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। কয়েক দফায় তনুর মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষা এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তদন্ত সংস্থা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
আদালত এই বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্ত এভাবে বছরের পর বছর ঝুলে থাকতে পারে না। বিচার পাওয়ার অধিকার সবার আছে এবং তদন্তের স্থবিরতা বিচারিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই প্রেক্ষাপটেই বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তলব করা হয়।
আদালতের এই আদেশের পর তনুর মা আনোয়ারা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, "দশটা বছর ধরে শুধু অন্ধকার দেখছি। কতজন অফিসার আসলেন আর গেলেন, কিন্তু আমার মেয়ের খুনিরা এখনো অধরা। আমরা শুধু বিচার চাই, আর কিছু না। মরার আগে দেখে যেতে চাই আমার মেয়ের খুনিদের শাস্তি হয়েছে।"
তনুর বাবা ইয়ার হোসেনও মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। শুরু থেকেই পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছিল যে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে এবং প্রভাবশালী মহলের চাপে তদন্ত এগোচ্ছে না।
সিআইডি সূত্রে এর আগে জানানো হয়েছিল যে, ঘটনাস্থলটি একটি সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় এবং ঘটনার সময় কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় ক্লু খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ডিএনএ প্রতিবেদনে একাধিক ব্যক্তির শুক্রাণু পাওয়া গেলেও সেগুলোর সাথে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ প্রোফাইল ম্যাচিং করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ।
আইনজীবীদের মতে, আদালতের এই কড়া নির্দেশের ফলে তদন্তে নতুন গতি আসতে পারে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে যদি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারেন, তবে আদালত তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন বা অধিকতর তদন্তের জন্য উচ্চ পর্যায়ের তদারকি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিতে পারেন।
তনু হত্যা মামলাটি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং স্পর্শকাতর মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের এই আদেশ ভুক্তভোগী পরিবারের মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে।
| ফজর | শুরু- ৫.১২ টা ভোর |
| যোহর | শুরু- ১২.১২ টা দুপুর |
| আছর | শুরু- ৩.৩০ টা বিকাল |
| মাগরিব | শুরু- ৫.৫৭ টা সন্ধ্যা |
| এশা | শুরু- ৭.১৩ মিনিট রাত |
| Jummah | - দুপুর |