জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী বিল-২০২৬ পাস: আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে
- পোষ্ট টাইম : 2026-04-09 11:30:30
- আপডেট টাইম :
- 2772 বার পঠিত
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকল। আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাসের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন এই আইনের ফলে আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারবে না এবং দলটির সকল কার্যক্রম অবৈধ বলে গণ্য হবে।
আজ সকালে সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করলে বিরোধী দলের কোনো জোরালো আপত্তি ছাড়াই তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি পাসের সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার। বিলটির মূল লক্ষ্য হলো—২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘গণহত্যা’ ও ‘সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্ত কোনো দল বা সংস্থাকে আইনিভাবে নিষিদ্ধ রাখা।
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে নিষিদ্ধ করেছিল। তবে সেই আদেশের আইনি ভিত্তি আরও মজবুত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি করতে সংসদ এই নতুন সংশোধনী আনল।
সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬-এর মাধ্যমে মূলত ২০০৯ সালের মূল আইনের ধারা ১৮-এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে: ১. কার্যক্রম নিষিদ্ধ: কোনো রাজনৈতিক দল যদি সরাসরি গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে উস্কানি দেয়, তবে সংসদ তা নিষিদ্ধ রাখতে পারবে। ২. অঙ্গ-সংগঠন: মূল দলের পাশাপাশি ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রমও নিষিদ্ধের আওতায় থাকবে। ৩. সম্পদ বাজেয়াপ্ত: দলটির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ৪. ব্যক্তিপর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা: নিষিদ্ধ দলের পরিচয় ব্যবহার করে কোনো প্রকার সভা-সমাবেশ বা মিছিল করলে তা ‘সন্ত্রাসবাদী অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে।
বিল পাসের পর এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে দল নিজের জনগণের ওপর বুলেট চালিয়েছে এবং হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে, তাদের এই দেশে রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার নেই। আইনের শাসনের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।"
আইনমন্ত্রী আসিফ নজরুল বিলটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, "এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। অপরাধী সংগঠনের বিচারে এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।"
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও কেউ কেউ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য সমমনা দলগুলো এই সিদ্ধান্তকে ‘গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন’ বলে অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে, দেশের বাইরে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আইনকে ‘অগণতান্ত্রিক’ ও ‘একতরফা’ বলে দাবি করেছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই ছাড়া এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই।
বিলটি পাসের পর রাজধানীসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য পকেট এলাকাগুলোতে বিজিবি ও পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।
| ফজর | শুরু- ৫.১২ টা ভোর |
| যোহর | শুরু- ১২.১২ টা দুপুর |
| আছর | শুরু- ৩.৩০ টা বিকাল |
| মাগরিব | শুরু- ৫.৫৭ টা সন্ধ্যা |
| এশা | শুরু- ৭.১৩ মিনিট রাত |
| Jummah | - দুপুর |